Posts

নিঝুম রাত ( পর্ব ১)

Image
রাত তখন প্রায় ১১ টা ছুঁই ছুঁই। অনিল সবে মাত্র ডিনার সেরে খোলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে এক সিগারেট ধরিয়ে তাতে টান দিতে ব্যস্ত। পুলিশ কোয়ার্টারে থাকতে থাকতে এই যখন তখন ঘরের মধ্যে সিগারেট জ্বালিয়ে খাওয়ার অভ্যাস টা বেশ শক্ত হয়ে ওর মধ্যে বসে গেছে। আর না বসেই বা উপায় কি, বাড়িতে থাকলে হয়তো এধরনের অভ্যাস কখনোই জন্ম নিতো না। সে যাইহোক তবে ডিউটির অক্লান্ত পরিশ্রমের পর রাত্রে বেলায় দুটো খাওয়ার মুখে দিয়ে একটা লম্বা সিগারেটের টান অনেকটাই যেনো চাপ, অস্থিরতা কমিয়ে দেয়। অনিল একজন লোকাল থানার কর্তব্যরত কনস্টেবল। হ্যাঁ অবশ্য বেশ কয়েকবার বদলি হওয়ার-ও রেকর্ড তার মধ্যে রয়েছে। আর তাই এখন তার কর্মস্থল বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে। পথটা নেহাতই খুব একটা কম নয় রোজ যাতায়াতের ক্ষেত্রে, তাই বাধ্য হয়েই পুলিশ কোয়ার্টারের গন্ডির মধ্যেই দিব্যি মানিয়ে চলেছে। ঝাড়গ্রামে আসার সুবাদে এখানকার বেশ কিছু মানুষের সাথে বেশ আলাপ পরিচিতিও হয়ে উঠৈছে। যদিও পুলিশের লোক বলে কথা, এলাকার নামকরা চোর ডাকাত এদের চেনেন বিলক্ষণ। আর চেনাটাও স্বাভাবিক। যাইহোক এই গেলো অনিলের কথা এবার ঘটনায় আসা যাক। অনিল সিগারেট টা জানালা ...

চাপা পড়া ভালোবাসা - পর্ব ১

Image
পড়ে থাকা গোলাপ টা আজ মাটির সাথে একেবারে মিশে হয়তো নষ্ট হয়ে গেছে আর তার সাথে সাথেই শেষ হয়ে গেছে কারো ভালোবাসার আশা। ভালোলাগা থেকে আসা ভালোবাসাটি হিরাজের মনে এক সাহস সঞ্চার করেছিল। মন সাহস জাগিয়েছিল রিয়া কে নিজের ভালবাসার কথাটা বিলিয়ে দেওয়ার, আর সেই মতো ছোট্ট এক ভালোবাসার গোলাপ নিয়ে তার অপেক্ষা ছিলো রিয়ার জন্য। কিন্তু রিয়ার জীবনে যে বহুদিন আগেই অন্যকারো প্রবেশ সেটা হিরাজের একবারে অজানা ছিলো। হিরাজের প্রিয় বন্ধু রিয়া যে তার জীবনের এই সত্যটা তার কাছে এভাবে লুকিয়ে রাখবে তা হিরাজের একেবারের জন্য মনে হয়নি। আর মনে হবেই কি করে রিয়ার প্রতি তার বন্ধুত্বের বিশ্বাস যে অনেকটা শক্ত ছিল। এদিকে রিয়া তার এই আনন্দের কথাটা হিরাজ কে হয়তো সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিল। এভাবেই হয়তো চাপা পড়ে গেছিল হিরাজের ভালোবাসা। আর যেদিন তার মনে হলো সব কথা রিয়া কে বলার সময় এসেছে সেই দিনটা অনেক বেশি দেরি হয়ে গেছে।তাই হিরাজের হাতের পিছনে লুকিয়ে রাখা গোলাপ টা বারবার সামনে এসে রিয়ার হাত ছুঁতে চাইলেও সেটা রিয়ার মনে জমে থাকা অন্যকারো প্রতি ভালোবাসার কথা শুনে লুকিয়েই থাকলো। হিরাজের প্রিয় বন্ধুর সুখের এই ...

Oiiii meye (ওই মেয়ে) status sayeri

Image
ওই মেয়ে, কোথায় চললি?  বলি ভালোবাসা কুড়োতে,  নাকি নিজ ভালোবাসার মূল্য ঘোচাতে?।  তোর অশ্রুর জন্ম দেয় যে ভালোবাসা,   সেই ভালোবাসা তুই করিস    বারবার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা।   বলি, ওই মেয়ে    নেই কি তোর কোনো আত্মসম্মান?  নাকি ভালোবাসার মোহতে দিলি মর্যাদার বলিদান ।     ওই মেয়ে,       আর অবহেলায় কত বাঁচবি তুই?     খোল চোখ, চেয়ে দেখ   পাবি এক সুন্দর জীবনের মই।।        সৌজন্যে : Prabal bhadra  Youtube :https://youtu.be/No9QeDPUM8E   

রুমাল ( স্বার্থত্যাগী ভালোবাসা সাথে বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি)

Image
রিমি আজ দিব্যি সুখী। অনেক বছর আগেই সে সুমনের জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন তার একবারের জন্য আগ্রহে থাকে না ফেলে আসা অতীত টা কে একবার চাক্ষুষ করার। আজ তার চারিদিকে হাজারটা প্রান তার সৌন্দর্যতার লোভে তার চারপাশে ঘুরে চলেছে। আর এটা রিমির অহংকারের মধ্যে অন্যতম এক অহংকার হিসেবে ফুটে উঠেছে। সে আজ দিব্যি নিজের মতো করে সুখ খুঁজতে ব্যস্ত। হাসি মজায় বেশ এগিয়ে যেতে থাকে তার জীবনটা। হঠাৎ তার জীবনে প্রবেশ করে এক সুন্দর মনের মানুষ। রিমির ও বেশ ভালোলাগে ছেলেটিকে। ছেলেটি যেন সত্যি সবার থেকে আলাদা। রিমির বেশ খেয়াল রাখে, এভাবে ছোটো বন্ধুত্বের মধ্যে দিয়ে রিমির মনে জায়গা করে নেয় প্রেম। তাদের মধ্যে এক বন্ধন সৃষ্টি হয়। রিমির কাছে এক প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠে সে। শুরু হয় ভালোবাসা। প্রেম দেখতে শুনতে বেশ ভালো, ভালো পড়াশোনাতেও, তার অবস্থাও বেশ স্বচ্ছল। বলতে গেলে রিমির পছন্দের পাত্র। প্রমের কাছেও রিমি অনেকটা পছন্দের হয়ে ওঠে । এভাবে তাদের সম্পর্ক টা দিব্যি এগিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ একদিন প্রেম এক ভালো কম্পানিতে চাকরি পায়। আর সেই আনন্দে রিমির জন্য এক সুন্দর উপহার নিয়ে তাকে দেওয়ার জন্য এক সুন্দর নদীর ধারে অপ...

দুর্লভ স্নেহ (সমাজের কলঙ্ক উপেক্ষা করেই সাহসিকতার স্নেহ)

Image
হঠাৎ যেন মাথার ওপরের পাখাটা বন্ধ হতেই ঘুম টা ভেঙে গেল। তখন দুপুর তিনটি পনেরো, বাইরে কড়া রোদ। গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে বাইরে টেকা দায় বললেই চলে। খাওয়া দাওয়া সেরে সুমন সবে মাত্র একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলো আর তাতেও জল ঢেলে দিল ক্যারেন্ট টা, অফিস কোয়ার্টারের লাইন টাও মাঝে মধ্যে খুব জালাতন করে, একে বাইরে টেকা দায় অন্যদিকে এই ঘরের গুমরো গরম, সত্যি বড়োই অসস্থিকর ।এই পরিবেশের মধ্যেই তাকে দিব্যি মানিয়ে নিতে হয় কেননা এখনকার দিনে এরকম আর একটা চাকরি জোগাড় করা খুবই দুর্লভ ব্যপার। যাইহোক, সুমন খাটের পাশের জানালাটা খুলে এক স্বস্তির নিঃশ্বাস নিচ্ছে এমন সময় তার চোখে পড়লো পাশের খোলা জায়গাটায় একটি ছোট্ট বালক হাতে ব্যাট আর বল নিয়ে দিব্যি একা একা নাচিয়ে চলেছে। তার যেন এই কড়া রোদ্দুরেও বেশ আনন্দ মাথাচারা দিয়ে উঠছে। সে তার একার মনে দিব্যি খেলে চলেছে। সুমনের বেশ দেখে ভালোলাগলো কিন্তু তার মাথায় একটা চিন্তা বারবার আসছিলো এই কড়া রোদে তার পিতা মাতাই বা কি করে বাচ্চাটিকে একা একা ছেড়ে দিয়েছে। হঠাৎ বাচ্চাটির সামনে এক পাগল রূপি ভদ্রলোক উপস্থিত হয়। সুমনের বেশ আতঙ্ক লাগে ব্যপার টা। দিনকাল তেমন ভালো ...

পাগল প্রেমিক (জটিল বাস্তবতার বাইরে কল্পনাহিত অপেক্ষা)

Image
সুন্দর একটি সন্ধ্যায় নির্মল আবহাওয়া, ছাদের কিনারায় ছেলেটি হাতে জ্বলন্ত সিগারেট আর কানে হেডফোন নিয়ে ওপাশের ছাদে কিছু একটা খোঁজায় ব্যস্ত। পাশের বাড়ির সুন্দর মেয়েটি যদি কিছু মুহূর্তের জন্য ছাদে পা দেয় তাহলে হয়তো ছেলেটির চাওনি টা সার্থকতা লাভ করবে, মেয়েটির জন্য এত ব্যস্ত হয়ে পড়া ছেলেটির মনে কি কোনো সত্যি ভালোবাসার ইঙ্গিত নাকি সমাজের ফ্যাশনে পড়ে হাল্কা ভালবাসার খেলা?, সে কি সুযোগ সন্ধানী চাতক পাখি নাকি চিরকাল প্রতিশ্রুতিবান প্রেম পূজারী?। কিন্তু একটি সত্যতা তার চোখে মুখে স্পষ্ট, তা হলো অপেক্ষা। যে অপেক্ষা বিগত তিন বছর ধরে রোজ রাতে ছাদের কিনারায় এসে করে সে, মেয়েটি কবে কখন ছাদে আসবে সেটা সে নিজেও জানে না। কিন্তু অপেক্ষার অনুভূতি গুলো তার ভাবতে দিব্যি লাগে।তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া এক মৃত্যুর সত্যতা তার মনে আজো অবিশ্বাসের বীজ বহন করে, তার মনের বিশ্বাস আজো মেয়েটি এই পৃথিবীর কোনো স্থানে লুকিয়ে থেকে অবিরত খেলে চলেছে তার সাথে লুকোচুরির খেলা। সবই তার বিশ্বাস আর অনুভূতি, তার থেকেই তার মনে জন্ম নেয় অপেক্ষা। ছেলেটি আজ জীবনের সুস্থতা কে ছাড়িয়ে অসুস্থ জীবনের মানুষ, কিন্তু বিশ্বাস, অনু...

Short poem(ছোটো কবিতা)

Image
    বাস্তবতার মাঝে সুখের লুকোচুরি ভঙ্গি,       বারবার খোঁজে লুকোচুরি খেলার সঙ্গী।    কাউকে করে প্রিয় কাউকে দূরে ঠেলে,   কাউকে সাজায় হাসি-খুশি কাউকে অশ্রুজলে            যখন আসে হাজার আলোর মাঝে,             করে তোলে জীবন রঙিন।        যখন করে প্রস্থান, করে দেয় সঙ্গীহিন।      তার উপস্থিতি নিশীরাতে সুন্দর ভাবনা,                  অনুপস্থিতির প্রহরে চলে অশ্রু জলের সাধনা। যাওয়া আসার এই নিয়মে সকলের চাহিদায়,     শুধু তার নাম জপ জীবনের কিনারায়।    চাহিদার শেষ প্রান্তে শুধু ফোঁটে তার নাম,      বারবার অভিযাত্রীর ন্যায় করে অভিযান।    তার আশায় দুখী মানব সরল অপেক্ষায়,        ছুঁতে চায় তাকে আনন্দের প্রতিক্ষায়।      অদ্ভুত রূপ তার করায় চাক্ষুষ,    হাসি কান্না তার শরিক, তার ইচ্ছায় ইচ্ছুক।   ...