পাগল প্রেমিক (জটিল বাস্তবতার বাইরে কল্পনাহিত অপেক্ষা)


সুন্দর একটি সন্ধ্যায় নির্মল আবহাওয়া, ছাদের কিনারায় ছেলেটি হাতে জ্বলন্ত সিগারেট আর কানে হেডফোন নিয়ে ওপাশের ছাদে কিছু একটা খোঁজায় ব্যস্ত। পাশের বাড়ির সুন্দর মেয়েটি যদি কিছু মুহূর্তের জন্য ছাদে পা দেয় তাহলে হয়তো ছেলেটির চাওনি টা সার্থকতা লাভ করবে, মেয়েটির জন্য এত ব্যস্ত হয়ে পড়া ছেলেটির মনে কি কোনো সত্যি ভালোবাসার ইঙ্গিত নাকি সমাজের ফ্যাশনে পড়ে হাল্কা ভালবাসার খেলা?, সে কি সুযোগ সন্ধানী চাতক পাখি নাকি চিরকাল প্রতিশ্রুতিবান প্রেম পূজারী?। কিন্তু একটি সত্যতা তার চোখে মুখে স্পষ্ট, তা হলো অপেক্ষা। যে অপেক্ষা বিগত তিন বছর ধরে রোজ রাতে ছাদের কিনারায় এসে করে সে, মেয়েটি কবে কখন ছাদে আসবে সেটা সে নিজেও জানে না। কিন্তু অপেক্ষার অনুভূতি গুলো তার ভাবতে দিব্যি লাগে।তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া এক মৃত্যুর সত্যতা তার মনে আজো অবিশ্বাসের বীজ বহন করে, তার মনের বিশ্বাস আজো মেয়েটি এই পৃথিবীর কোনো স্থানে লুকিয়ে থেকে অবিরত খেলে চলেছে তার সাথে লুকোচুরির খেলা। সবই তার বিশ্বাস আর অনুভূতি, তার থেকেই তার মনে জন্ম নেয় অপেক্ষা। ছেলেটি আজ জীবনের সুস্থতা কে ছাড়িয়ে অসুস্থ জীবনের মানুষ, কিন্তু বিশ্বাস, অনুভূতি আর অপেক্ষা এই বস্তু গুলি তার জীবনেও বিরাজমান আজ। সুস্থ জীবনের বিশ্বাস, অনুভূতি আর অপেক্ষার ধরন অনেকটা আলাদা হয়, তাই সুস্থ জীবনে ঘিরে ধরে নানা জটিলতা, অপরদিকে অসুস্থ জীবনের বিশ্বাস, অনুভূতি আর অপেক্ষা গুলি বেশ অন্যরকম তাতে নেই কোনো জটিলতা। আর তাই ছেলেটি আজো অপেক্ষারত সেই মেয়েটির ফিরে আসার, তার চোখে আজ অশ্রু নয় শুধু অপেক্ষার চাওনি। তাদের ভালবাসা কতটা সার্থক সেটা জটিল বাস্তবে হাস্যকর, কিন্তু কল্পনার পৃথিবীতে আকাশের চাঁদ তারার মতো সত্য।

     তাই বোধহয় বাস্তবে এত হিংসা, বিবাদ, অহংকার, চাহিদা, বিশ্বাসঘাতকতার বাইরে কল্পনার সাগরে ডুবে থাকা সমাজের পাগলের ছাপ এঁটে দেওয়া উন্মাদ মানুষগুলোর জীবনটা এতটা সরল আর সাদাসিদে, অন্য দুনিয়ায় তারা দিব্যি ব্যস্ত নিজেদের মতো সুখ কুড়োতে।

                     লেখা - প্রবাল

Comments

Passionate writer

রুমাল ( স্বার্থত্যাগী ভালোবাসা সাথে বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি)

না বলা কথা