না বলা কথা



ব্যস্ত শহরের কর্ম ব্যস্ততার মাঝে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছোট্ট গ্যারেজ। সেই গ্যারেজেই কর্মরত অবস্থায় সুমন, নানা অভাব অনটনের মধ্যে অতিবাহিত হওয়া সুমন গ্যারেজের কালো ধোঁয়ার মাঝে হাতে কালির দাগ লাগিয়ে ক্রমাগত নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকে। গ্যারেজের কাজের শেষে কলেজের প্রিয় বেঙ্চের ডাকে এক ছুটে কলেজের পথে, এই ছিল তার জীবন। তার এই কষ্ট সহিষ্ণ জীবনের মাঝে এক রাজকুমারীর বেশে প্রবেশ করে রিমি। তাদের মধ্যে তফাত টা আকাশ পাতালের, রিমি এক স্বাচ্ছন্দ্য পরিবারের মেয়ে তার বাবা একজন পুলিশের কর্তা। সুমনের কলেজেই অ্যাডমিশন নেয় রিমি, যদিও সে সুমনের থেকে জুনিয়র ক্লাসে। দেখতে দেখতে সুমনের চোখের নির্মম ফোকাসে ধরা পড়ে রিমির সৌন্দর্যতা, সেই সৌন্দর্যতা কে অগ্রাহ্য করার সাধ্য সুমনের ছিল না। শ্রেনীকক্ষ আলাদা হওয়ার দরুন রিমির কলেজের ক্লাস একটু আগেই শুরু হতো সুমনের ক্লাসের থেকে। রিমির কলেজ যাওয়ার রাস্তাটাও ছিল সেই ভাঙাচোরা গ্যারেজ টার পাশ দিয়েই, যেই গ্যারেজে প্রতিনিয়ত ঘাম ঝরিয়ে সুমন নিজের কলেজের পড়াশোনার ফিস জোগাতো।
        প্রত্যেক দিন রিমির কলেজে যাওয়ার সময়ে সুমন গ্যারেজে নানা কাজের মাঝেও অপলক দৃষ্টিতে রিমিকে প্রত্যক্ষ করে নিজের ফ্রেমে বন্দি করতো। এভাবে দিনগুলি বেশ কাটতে থাকে কিন্তু রিমির সময়ে বা আগ্রহে কখনোই সেই কষ্ট-সহিষ্ণ ছেলেটার অপলক দৃষ্টিকে পাত্তা দেওয়ার ক্ষণ ছিল না। সুমনের ও কখনো সাহস হতো না রিমির সাথে ছোট্ট এক আলাপ জমানোর, কেননা সে রিমির দুনিয়া থেকে অনেকটাই আলাদা তার বাবা একজন সামান্য কারখানার কর্মচারী, তাই রিমির সাথে বন্ধুত্বের ইচ্ছা থাকলেও সেই স্পর্ধা তার ছিল না। এভাবে দেখতে দেখতে কয়েক মাস কেটে যায়, কিন্তু কখনোই রিমি জানতে পারে না তার এই অজানা বন্ধুর পরিচয়, জানতে পারে না কেউ হয়তো নিস্তব্ধ ভঙ্গিতে তাকে নিয়ে এক প্রেমের রচনা লিখে চলেছে।

         হঠাৎ একদিন বেশ অনেক দূরে রিমির বাবার ট্রান্সফারের নোটিস ভেসে আসে, রিমিও নিজের কলেজ থেকে ট্রান্সফারের সার্টিফিকেট নিয়ে এসে আজ বহূ দূরে পাড়ি দেওয়ার প্রতিক্ষনে। রিমির কোয়ার্টার থেকে স্টেশন যাওয়ার রাস্তাটা অনেকটাই আর সাথে বহু মালপত্র। প্রত্যাশা মতোই সামনের কোনো এক গ্যারেজ থেকে একটি গাড়ি ভাড়া করেন আনেন রিমির বাবা, সেই গাড়িটিই আজ তাদের স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার সাথী।

               অবশেষে কিছু মুহূর্ত কাটানো এই শহর টা ছেড়ে কারো নিস্তব্ধ ভালোবাসার অজানা বাঁধন ছিড়েঁ রিমি আজ অন্য কোনো শহরের পথে। আর নিস্তব্ধ ভঙ্গিতে রিমিকে নিয়ে প্রেমের রচনা লিখে চলা আজকের সুমনই রিমিকে কিছুটা পথ এগিয়ে দেওয়ার কান্ডারী, কারন সেই আজ রিমির ভাড়া করা গাড়িটির চালক। তার পকেটে আজ লুকিয়ে আছে এক ছোট্ট চিঠি, এই চিঠিটাই হতে পারে রিমিকে দেওয়া তার প্রথম তথা শেষ চিঠি।

            লেখা - প্রবাল 

Comments

Passionate writer

রুমাল ( স্বার্থত্যাগী ভালোবাসা সাথে বন্ধুত্বের প্রতিশ্রুতি)

পাগল প্রেমিক (জটিল বাস্তবতার বাইরে কল্পনাহিত অপেক্ষা)