একটি মিষ্টি মেয়ে


সরস্বতী পুজোর সকালটা মেয়েটার কাছে ছিল বেশ হাসি খুশি, ঘুম থেকে উঠে চটজলদি স্নান সেরে সুন্দর ভাবে নিজেকে সাজিয়ে নেওয়া। কারো কাছে সে স্বপ্নের রাজকন্যা হলেও বাস্তবে সে কোনো রাজকন্যা নয় বরং হাসি খুশি সমৃদ্ধ মিষ্টি এক  মেয়ে, ঠাকুরের কাছে তার পুষ্পাঞ্জলি উৎসর্গই প্রমান করে তার মনে জমে থাকা শ্রদ্ধা ও ভক্তি গুলোই। সে সবার থেকে আলাদা, সে আলাদা এই মুখোশধারী সমাজের মানুষগুলোর থেকেও। পরনে নীল সারি হাল্কা লিপস্টিক গলায় এক সুন্দর হার এই ছিল তার স্পেশাল দিনটির সাজ। মেয়েটি ঘুরতে খুব ভালোবাসে, ভালোবাসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন গুলিকেও। বন্ধুদের সাথে বিভিন্ন মন্ডপে মেয়েটির উপস্থিতি বারবার হাজারটা পুরুষের মনে ঝরের সঞ্চার করে, মেয়েটির মনে এসব কে পাত্তা না দেওয়ার ভ্রম ই কাজ করে সবসময়। তার উদ্দেশ্যের মধ্যে থাকে বন্ধুত্বের সাথে অনেকটা আনন্দ ও বিপুল খুনসূটি, অতি সাধারণ মানুষের ন্যায় সবসময় হাসি খুশি তে ব্যস্ত থাকে সে, অহংকারের ঘরে তার প্রবেশ নিষেধ। সে সত্যিই অনেকটা আলাদা, সে অনেকটাই আলাদা এই নিষ্ঠুর সমাজের থেকে। তার মনে জমে থাকা কষ্ট গুলো সামনে আসতে কখনোই দেয় না সে বরং লোকের কষ্ট প্রতিহত করতে বারবার সঞ্চার হয় নিজস্ব ভঙ্গিতে। তার গলার সুরে সে অনেকটা এগিয়ে সবার থেকে। তাকে নিয়ে কারো কিছুটা পাগলামি বারবার ধরা পড়ে মেয়েটির চোখে, তার হৃদয় টা সত্যি খুব সুন্দর, কারো কিছুটা পাগলামিকেও তার সুন্দর হৃদয় হাসি মুখে স্বীকার করে, নিজের বন্ধুদের প্রতি তার কিছুটা দায়িত্ববোধ বারবার পালন করে সে। তার এই সুন্দর জীবনে কোনো একদিন রাজকুমারের বেশে প্রবেশ করবে তার জীবনসাথী, তাকে অনেকটা আপন করে সমস্ত ভালোবাসা উজাড় করে দেবে। সেদিন আর মেয়েটার আশেপাশে কারো পাগলামি, কারো বন্ধুত্বের অস্থিরতা এসব সম্মুখে এসে হাজির হবে না, মেয়েটির সুখের জীবনে এসব বারবার আড়াল থেকেই ভালোবাসার রূপরেখা এঁকে চলবে, মেয়েটির সুখ কামনাতেই বারবার সঞ্চার হবে এক বন্ধুত্ব পূর্ণ ছাউনি রূপে।

           লেখা : প্রবাল

Comments