অন্তহীন ভালোবাসা



তখন সন্ধ্যা ৭ টা হঠাৎ করে ঝমঝম বৃষ্টির শব্দে সুমনের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ফরেস্ট অফিসের কর্মী সুমন সারাদিন কর্ম ব্যস্ততার পর দুপুরে একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলো এই আর কি। যাই হোক ঘুম থেকে উঠে হাতের কাছে রাখা মোমবাতিটা জ্বালাতে যাবে এমন সময় জানালার পাশে কাউকে একটা চোখে পরে, সুমন উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে তার পরিচয় জানতে চায়। আসলে ফরেস্ট বাংলোর কাছাকাছি জঙ্গলে অনেক ই চোরাচালান দের আবির্ভাব দিন দিন বেড়ে উঠেছিল। সুমনের প্রশ্নের উত্তর তবে ভেসে এলো, "আমি বাবু দয়া করিয়া দরজাটা খুলিবেন"। গলাটা সুমনের ঠিক চেনা না লাগার দরুন ইতস্তত মুখেই দরজাটা খুলতে এগোলো, দরজা খুলে সুমন লোকটিকে ভিতরে আসার আহ্বান জানালো লোকটিও তার  আহ্বানে সারা দিয়ে ভেতর এগিয়ে এলেন। "বলুন কে আপনি কি দরকার আমার সাথে"।"আমি বিরটপুর গাঁ থেকে আসছি, বিরটপুর নাম টা শুনতেই যেন সুমনের চোখে এক বিরাট অশ্রুর স্রোত খেলে গেল। স্হিত গলায় সুমন জিজ্ঞেস করলো" তা কি দরকার আমার সাথে "।" কাল মুনিয়ার জন্মদিন তাই আপনাকে নিমন্ত্রণ জানাইতে আসিয়াছি মা ঠাকরুনের অনুরোধ আপনি কাল অবশ্যই যাইবেন"। এই বলে লোকটাও সেই স্থান হতে প্রস্থান করলো।
        মোমবাতির আলোটা কেমন যেন নিভে এসেছে, সুমন নিজের ট্রাঙ্ক থেকে মুনিয়ার ছবিটা বের করে অশ্রু চোখে দেওয়ালের এক কোনে টাঙিয়ে দিল। যে ছবিটা এতদিন পুরনো ট্রাঙ্কের ভিতর বন্দি ছিল হঠাৎ ই  সেটা বাইরে বেরিয়ে এলো এখন শুধু একটা মালার অপেক্ষা।
    হ্যাঁ সত্যি ই আশ্চর্য ব্যাপার যে মানুষটা ওনেকদিন আগেই সুমনের ভালোবাসার সব মায়া ছিন্ন করে ওনেকদুরে পারি দিয়েছে আর তার জন্মদিনের আগের দিন রাতেই সুমনের মুছে যাওয়া স্মৃতিতে আবার জ্বলে উঠলো। হ্যাঁ এটাই হয়তো ভালোবাসা যেটা কোনো কারন বশত নিভে গেলেও না না ছুতোয় আবার মানুষের হৃদয়ে তার স্মৃতি টুকু ফিরে আসে।এই গল্পে তাই হয়তো মুনিয়ার মৃত্যুশোকে পাগল হয়ে যাওয়া তার প্রিয় মা মুনিয়ার ভালোবাসার মানুষটিকে তার মেয়ের জন্মদিনের সংবাদ প্রদান করতে ভুল করেননি এটা আরেক ভালবাসা যার নাম মাতৃ স্নেহ।
     সত্যি কি অদ্ভুত না ভালবাসার আকার গুলো আলাদা হলেও টান টা একদম একি। তাই বলি দুনিয়ার সেরা ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই।
   ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন,
                           ধন্যবাদান্তে Prabal 

Comments