রিমি আজ দিব্যি সুখী। অনেক বছর আগেই সে সুমনের জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন তার একবারের জন্য আগ্রহে থাকে না ফেলে আসা অতীত টা কে একবার চাক্ষুষ করার। আজ তার চারিদিকে হাজারটা প্রান তার সৌন্দর্যতার লোভে তার চারপাশে ঘুরে চলেছে। আর এটা রিমির অহংকারের মধ্যে অন্যতম এক অহংকার হিসেবে ফুটে উঠেছে। সে আজ দিব্যি নিজের মতো করে সুখ খুঁজতে ব্যস্ত। হাসি মজায় বেশ এগিয়ে যেতে থাকে তার জীবনটা। হঠাৎ তার জীবনে প্রবেশ করে এক সুন্দর মনের মানুষ। রিমির ও বেশ ভালোলাগে ছেলেটিকে। ছেলেটি যেন সত্যি সবার থেকে আলাদা। রিমির বেশ খেয়াল রাখে, এভাবে ছোটো বন্ধুত্বের মধ্যে দিয়ে রিমির মনে জায়গা করে নেয় প্রেম। তাদের মধ্যে এক বন্ধন সৃষ্টি হয়। রিমির কাছে এক প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠে সে। শুরু হয় ভালোবাসা। প্রেম দেখতে শুনতে বেশ ভালো, ভালো পড়াশোনাতেও, তার অবস্থাও বেশ স্বচ্ছল। বলতে গেলে রিমির পছন্দের পাত্র। প্রমের কাছেও রিমি অনেকটা পছন্দের হয়ে ওঠে । এভাবে তাদের সম্পর্ক টা দিব্যি এগিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ একদিন প্রেম এক ভালো কম্পানিতে চাকরি পায়। আর সেই আনন্দে রিমির জন্য এক সুন্দর উপহার নিয়ে তাকে দেওয়ার জন্য এক সুন্দর নদীর ধারে অপ...
সুন্দর একটি সন্ধ্যায় নির্মল আবহাওয়া, ছাদের কিনারায় ছেলেটি হাতে জ্বলন্ত সিগারেট আর কানে হেডফোন নিয়ে ওপাশের ছাদে কিছু একটা খোঁজায় ব্যস্ত। পাশের বাড়ির সুন্দর মেয়েটি যদি কিছু মুহূর্তের জন্য ছাদে পা দেয় তাহলে হয়তো ছেলেটির চাওনি টা সার্থকতা লাভ করবে, মেয়েটির জন্য এত ব্যস্ত হয়ে পড়া ছেলেটির মনে কি কোনো সত্যি ভালোবাসার ইঙ্গিত নাকি সমাজের ফ্যাশনে পড়ে হাল্কা ভালবাসার খেলা?, সে কি সুযোগ সন্ধানী চাতক পাখি নাকি চিরকাল প্রতিশ্রুতিবান প্রেম পূজারী?। কিন্তু একটি সত্যতা তার চোখে মুখে স্পষ্ট, তা হলো অপেক্ষা। যে অপেক্ষা বিগত তিন বছর ধরে রোজ রাতে ছাদের কিনারায় এসে করে সে, মেয়েটি কবে কখন ছাদে আসবে সেটা সে নিজেও জানে না। কিন্তু অপেক্ষার অনুভূতি গুলো তার ভাবতে দিব্যি লাগে।তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া এক মৃত্যুর সত্যতা তার মনে আজো অবিশ্বাসের বীজ বহন করে, তার মনের বিশ্বাস আজো মেয়েটি এই পৃথিবীর কোনো স্থানে লুকিয়ে থেকে অবিরত খেলে চলেছে তার সাথে লুকোচুরির খেলা। সবই তার বিশ্বাস আর অনুভূতি, তার থেকেই তার মনে জন্ম নেয় অপেক্ষা। ছেলেটি আজ জীবনের সুস্থতা কে ছাড়িয়ে অসুস্থ জীবনের মানুষ, কিন্তু বিশ্বাস, অনু...
ব্যস্ত শহরের কর্ম ব্যস্ততার মাঝে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছোট্ট গ্যারেজ। সেই গ্যারেজেই কর্মরত অবস্থায় সুমন, নানা অভাব অনটনের মধ্যে অতিবাহিত হওয়া সুমন গ্যারেজের কালো ধোঁয়ার মাঝে হাতে কালির দাগ লাগিয়ে ক্রমাগত নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকে। গ্যারেজের কাজের শেষে কলেজের প্রিয় বেঙ্চের ডাকে এক ছুটে কলেজের পথে, এই ছিল তার জীবন। তার এই কষ্ট সহিষ্ণ জীবনের মাঝে এক রাজকুমারীর বেশে প্রবেশ করে রিমি। তাদের মধ্যে তফাত টা আকাশ পাতালের, রিমি এক স্বাচ্ছন্দ্য পরিবারের মেয়ে তার বাবা একজন পুলিশের কর্তা। সুমনের কলেজেই অ্যাডমিশন নেয় রিমি, যদিও সে সুমনের থেকে জুনিয়র ক্লাসে। দেখতে দেখতে সুমনের চোখের নির্মম ফোকাসে ধরা পড়ে রিমির সৌন্দর্যতা, সেই সৌন্দর্যতা কে অগ্রাহ্য করার সাধ্য সুমনের ছিল না। শ্রেনীকক্ষ আলাদা হওয়ার দরুন রিমির কলেজের ক্লাস একটু আগেই শুরু হতো সুমনের ক্লাসের থেকে। রিমির কলেজ যাওয়ার রাস্তাটাও ছিল সেই ভাঙাচোরা গ্যারেজ টার পাশ দিয়েই, যেই গ্যারেজে প্রতিনিয়ত ঘাম ঝরিয়ে সুমন নিজের কলেজের পড়াশোনার ফিস জোগাতো। প্রত্যেক দিন রিমির কলেজে যাওয়ার সম...
Comments
Post a Comment